প্রকাশিত: Thu, Aug 10, 2023 9:01 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:38 AM

[১]বেলারুশের প্রেসিডেন্ট, বিচারক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ইইউয়ের নিষেধাজ্ঞা [২]অবাধ ও নিরপেক্ষ নতুন নির্বাচনের আহ্বান [৩]মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের দায়মুক্তি হতে পারে না

রাশিদুল ইসলাম: [৪] বুধবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো, শাসকগোষ্ঠীর ১০১ জন কর্মকর্তা এবং তাদের সহযোগীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন বেশ কয়েকজন বিচারক, দেশটির জাতীয় উপদেষ্টা ও লুকাশেঙ্কোর ছেলে ভিক্টর। রয়েছেন কেজিবি গোপন পুলিশ প্রধান ইভান টারটেল এবং প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর চিফ অফ স্টাফ ইগর সার্জেনকো। মৌলিক স্বাধীনতা চর্চা করার কারণে বেলারুশের জনগণের বিরুদ্ধে এসব বিচারক রাজনৈতিক উদ্দেশে শাস্তি দিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি/সিএনএন/ইয়াহুনিউজ/ডেইলি মেইল

[৫] কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি জানান, বেলারুশের ৯ জন ব্যক্তি এবং ৭টি এনটিটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা  দেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জন্য কোনো দায়মুক্তি হতে পারে না।  

[৬] বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে 

বলেন, বেলারুশে ‘জালিয়াতি’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তিন বছর পূর্ণ হলো। লুকাশেঙ্কো শাসকগোষ্ঠী বেলারুশের জনগণের স্বাধীনতার দাবিকে দমনপীড়ন করছেন। দমনপীড়ন চালিয়েছে বিরোধী দলগুলো এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। বেলারুশের সাহসী জনগণের পাশে অব্যাহতভাবে অবস্থান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জনগণের চাওয়া একটি জবাবদিহিতামূলক, গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকার। গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য বেলারুশের জনগণকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় দেশটির আটজন ব্যক্তি এবং ৫টি এনটিটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, লুকাশেঙ্কো শাসকগোষ্ঠী ১৫০০ রাজনৈতিক বন্দিকে আটকে রেখেছে। আমরা তাদের অবিলম্বে এবং শর্তহীন মুক্তি দাবি করছি। 

 [৭] লুকাশেঙ্কা দাবি করেন তিনি ভোটে জিতেছেন। প্রধান বিরোধী নেতা, স্বেতলানা তিখানভস্কায়া দাবি করেন তিনি ৬০ থেকে ৭০% ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই প্রতিবেশি দেশ লিথুয়ানিয়ায় নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তিনি।

[৮] ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ডমিনিক রাব বলেছেন নির্বাচনে লুকাশেঙ্কোর জালিয়াতি প্রকাশ পেয়েছে এবং তিনি বেলারুশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নতুন নির্বাচন আহ্বান জানান। 

 [৯] দেশটির ওপর ইইউ নিষেধাজ্ঞার অর্থ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইউরোপের দেশে ভ্রমণের ভিসা পাবেন না। ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে তাদের যেকোন সম্পদ জব্দ করা হতে পারে। ইইউ নাগরিক এবং কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

[১০] লুকাশেঙ্কো, মস্কোর একজন মিত্র যিনি ১৯৯৪ সাল থেকে বেলারুশ শাসন করেছেন, ২০২০ সালে ষষ্ঠ মেয়াদের মত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন এবং এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। 

[১১] মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার নির্বাসিত বেলারুশিয়ান বিরোধী নেতা স্বেতলানা তিখানভস্কায়া এবং কর্মীদের জন্য ফের সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, দেশটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সার্বভৌম বেলারুশ দেখার আশা করছি।

 [১২] বেলারুশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা, আকাশসীমা বন্ধ এবং সীমান্ত অবরোধ, তথ্যের চাপ, কিছু ইইউ সদস্যদের উস্কানি সত্ত্বেও বেলারুশ তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ধরে রাখতে এবং শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। 

[১৩] অধিকার গ্রুপ ভিয়াসনার মতে, বেলারুশে ১,৪৯৪ জন রাজনৈতিক বন্দী রয়েছে।

[১৪] ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, বেলারুশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের ‘সহযোগী’ হয়ে উঠেছে। যতদিন প্রয়োজন হবে ইইউ বেলারুশের উপর চাপ অব্যাহত রাখবে এবং দেশটিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। সম্পাদনা: ইকবাল খান